প্রায় সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন

২ দশমিক ৪৫ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। গত সপ্তাহ‌ে পুঁজিবাজা‌রে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ছাড়া বাকি সব খা‌তের শেয়া‌রেই নে‌তিবাচক রিটার্ন এসেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শুরু থেকেই নিম্নমুখী ছিল সূচক। কিন্তু পতন ঠেকাতে স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফলে বিনিয়োগকারীদের মাঝে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ ক্যাটাগরির একক শেয়ারে বিনিয়োগসীমা থেকে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) অব্যাহতি প্রদানের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের দেয়া মার্জিন ঋণের বিপরীতে অনাদায়ী ক্ষতির (নেগেটিভ ইকুইটি) সমস্যা সমাধানেও আশ্বাস দেয় বিএসইসি। এসব উদ্যোগেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরেনি। এ কারণে গত সপ্তাহেও পুঁজিবাজারে পতন অব্যাহত ছিল।

গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৯৭৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৯৭ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৮৭৫ পয়েন্ট। ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে ৩৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৪৪ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৩৯৬টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৭টির, কমেছে ৩২৪টির, অপরিবর্তিত ছিল ১৫টির আর লেনদেন হয়নি ১৭টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বিচ হ্যাচারি, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ, এডিএন টেলিকম ও দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসে মোট ৩৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩৯৯ কোটি টাকা। খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ২০ শতাংশ দখলে নিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১১ দশমিক ৮১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। আর প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ৮ দশমিক ২৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের শেয়ারে দশমিক ৬৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এছাড়া বাকি সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এরপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন ছিল পাট খাতে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৮ দশমিক ৪৯ , জীবন বীমা খাতে ৫ দশমিক ৫৩ ও সিরামিক খাতে ৫ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ১২ শতাংশ কমে ১৩ হাজার ৯৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ২৫৯ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৬৮৫ পয়েন্ট।

সিএসইতে গত সপ্তাহে ২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৩২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩১৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২৪২টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির বাজারদর।

আরও